গাজার মৃত্যুপুরীতে ফ্যাকাশে ঈদ
ঈদ মানে আনন্দ, যা প্রতি বছর ফিরে আসে। আল্লাহ তায়ালা রমজানের কঠোর সিয়াম সাধনার পর তাঁর বান্দাদের জন্য এই দিনটিকে বিশেষ নেয়ামত হিসেবে দান করেছেন। মুসলিম বিশ্বে ঈদ ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও উদারতার প্রতীক। কিন্তু গাজা উপত্যকায় আজ ঈদের কোনো আনন্দ নেই, সেখানে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। ১৮ মাস ধরে চলা নির্মম আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের জীবন বিপর্যস্ত। যেখানে প্রতিদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে প্রাণ, সেখানে ঈদের স্বাভাবিক আয়োজন করা এক দুঃস্বপ্ন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এ পর্যন্ত ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক নির্দেশ অমান্য করে ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি গোরস্থানগুলোও ধ্বংস করা হচ্ছে। গাজায় এখন ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, যেখানে ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ায় সেখানে ভয়াবহ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ যখন উৎসবে মত্ত, তখন গাজাবাসী ঈদের নামাজ পড়ার জায়গাটুকুও হারিয়েছে। ১২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৪টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তা এবং পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিচারিতা আজ স্পষ্ট। যারা মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, তারাই ইসরায়েলকে মারণাস্ত্র সরবরাহ করছে। গাজার এই সংকট কেবল একটি সংঘাত নয়, এটি দীর্ঘ ১৮ বছরের অবরোধের চূড়ান্ত রূপ। ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আজ এমন এক সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন, যিনি মজলুমের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হবেন।