সুলতানী আমলে ‘ঈদ’
ঈদুল ফিতর মানে সিয়াম ভাঙার উৎসব। রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় থাকাকালীন ঈদের কোনো হুকুম আসেনি, কারণ সেই সময় ছিল নির্যাতনের। দ্বিতীয় হিজরীতে মদিনায় যখন ইসলামের বিজয় সূচিত হয় এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকে ঈদ উদযাপন শুরু হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন সকালে গোসল করে সর্বোত্তম পোশাক পরে ঈদগাহে যেতেন এবং নামাজের পর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খুতবা দিতেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে জামাতে শামিল হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতেন।
বাংলায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদ উদযাপন শুরু হয় সুলতানী আমলে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বঙ্গবিজয়ের পর থেকে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলতানরা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঈদ পালন করতেন। বাংলার সুলতানী যুগের সমাপ্তি হয় আফগান কররানি শাসনের মধ্য দিয়ে। এই পরিবারের ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করে আসছেন হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা। ঐতিহাসিকদের মতে, গৌড় ও সোনারগাঁওয়ের ঈদগাহ ময়দানে বিশাল সমাবেশ হতো। সুলতান নিজে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ শুনতেন এবং বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। মুঘল আমলেও কামান দাগিয়ে ঈদের আনন্দ ঘোষণা করা হতো।
বর্তমানে আমাদের সমাজে ঈদের উৎসবের বাহ্যিক জাঁকজমক থাকলেও সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার অভাব প্রকট। সত্যিকারের ঈদ তখনই সার্থক হবে, যখন সমাজে তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে। শুধু উৎসবের আতিশয্য নয়, বরং আল্লাহর দ্বীনকে সামগ্রিক জীবনে কায়েম করার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহর (সা.) যুগের সেই প্রকৃত ঈদের আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।