আখেরি যামানা বা শেষ যুগে দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বে নানা রহস্যময় ধারণা প্রচলিত আছে। বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী-দাজ্জাল হবে এক চক্ষুবিশিষ্ট এক মহাশক্তিধর দানব, যে এক বিরাট বাহনে চড়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হবে। সে আল্লাহর পরিবর্তে নিজেকে মানবজাতির ‘রব’ বা প্রভু হিসেবে দাবি করবে। দাজ্জালের সাথে থাকবে জান্নাত ও জাহান্নামের মতো দুটি বৈপরীত্য। সে যাকে জান্নাত বলবে, সেটি আসলে হবে জাহান্নাম; আর যাকে জাহান্নাম বলবে, সেটিই হবে প্রকৃত জান্নাত। যারা তাকে প্রভু মেনে নেবে, তাদের সে অঢেল রিযিক ও পার্থিব সুখ-শান্তি দান করবে। আর যারা তাকে অস্বীকার করবে, তাদের ওপর সে নিষেধাজ্ঞা (Sanction) ও অবরোধ (Embargo) আরোপ করে জীবন দুর্বিষহ করে তুলবে। রাসূল (সা.) দাজ্জালের এই ফেতনাকে আদম (আ.) থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এর হাত থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।
আল্লাহর অশেষ রহমতে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সেই দাজ্জালকে বাস্তবিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রমাণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, বর্তমান ‘পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ইহুদি-খ্রিস্টান যান্ত্রিক সভ্যতা’ই (Judeo-Christian Materialistic Civilization) হলো সেই দাজ্জাল। কয়েকশ বছর আগে জন্ম নেওয়া এই দানবীয় সভ্যতা আজ তার পূর্ণ যৌবনে উপনীত হয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে সারা বিশ্বকে শাসন করছে। মুসলিম উম্মাহসহ প্রায় সমগ্র মানবজাতি আজ এই যান্ত্রিক সভ্যতার তৈরি জীবনব্যবস্থাকেই ধ্রুব সত্য মনে করে এর পায়ে সিজদাবনত হয়ে আছে।
চাকচিক্যময় প্রতারক: দাজ্জালের স্বরূপ
‘দাজ্জাল’ শব্দের অর্থ হলো ‘চাকচিক্যময় প্রতারক’। যা বাইরে থেকে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় মনে হলেও ভেতরটা কুৎসিত ও ধ্বংসাত্মক। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা ঠিক তেমনই-বাইরে থেকে এর প্রযুক্তিগত সাফল্য ও চাকচিক্য মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, কিন্তু এর প্রভাবে পৃথিবী আজ অন্যায়, অবিচার, যুদ্ধ, ক্ষুধা ও রক্তপাতে পূর্ণ। বিগত শতাব্দীতে এই সভ্যতা দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটিয়ে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করেছে এবং বর্তমান শতাব্দীতেও বিভিন্ন আগ্রাসনে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে চলেছে। এই সভ্যতা প্রকাশ্যেই আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে মানুষের সার্বভৌমত্ব তথা ‘মানবরচিত শাসন’ কায়েম করেছে। মুসলিম উম্মাহ দাজ্জালকে না চিনে তার দেওয়া জীবনব্যবস্থা ও ভোগবাদী দর্শনকে গ্রহণ করার ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হচ্ছে। রাসূল (সা.)-এর বর্ণিত বর্ণনাগুলো আসলে ছিল বর্তমান সভ্যতার শক্তি ও চরিত্র সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দেওয়ার জন্য এক অসাধারণ রূপক বা প্রতীকী বর্ণনা।
দাজ্জাল প্রতিরোধ ও এক অলৌকিক নিদর্শন
দাজ্জাল যে মূলত এই বস্তুবাদী সভ্যতা-তা কেবল যুক্তি বা তর্কের বিষয় নয়, বরং এর পেছনে একটি বড় আত্মিক ও অলৌকিক নিদর্শন বিদ্যমান। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, “আখেরি যামানার সেই অভিশপ্ত দাজ্জালকে যারা প্রতিরোধ করবে, তাদের মর্যাদা হবে বদর ও ওহুদ যুদ্ধের শহীদদের সমান।”
এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী দাজ্জালকে চিহ্নিত করার পর হেযবুত তওহীদের সদস্যরা এই দানবীয় সভ্যতার আদর্শিক মোকাবেলায় আত্মনিয়োগ করেছেন। বর্তমান পৃথিবীতে হেযবুত তওহীদই একমাত্র দল, যারা এই সভ্যতাকে ‘দাজ্জাল’ হিসেবে চিনে তা প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আন্দোলনের অনেক সদস্যের ইন্তেকালের পর তাঁদের দেহে এক অলৌকিক নিদর্শন পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের মৃত্যুর ২ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে শরীর কাঠের মতো শক্ত হয়ে যায়, যাকে ‘রিগার মর্টিস’ (Rigor Mortis) বলা হয়। কিন্তু হেযবুত তওহীদের অনেক সদস্যের ক্ষেত্রে মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরও শরীর শক্ত হয়নি এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক মৃতের মতো শীতল হয়ে যায়নি। ৩১ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃতদেহ জীবন্ত মানুষের মতো নমনীয় ছিল।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরণের ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও এ বিষয়ে প্রমাণসহ জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, কিন্তু কেউই কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আমাদের বিশ্বাস, এই ব্যতিক্রমী ও অলৌকিক ঘটনার একমাত্র ব্যাখ্যা হলো-দাজ্জাল প্রতিরোধের কারণে আল্লাহ তাঁদেরকে জীবিত অবস্থাতেই ‘শহীদ’ হিসেবে কবুল করে নিয়েছেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের মৃত বোলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।” (সুরা বাকারা: ১৫৪)। শহীদরা যে মৃত্যুর পরও আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদায় সিক্ত থাকেন, এটি তারই এক পার্থিব নিদর্শন।
হেযবুত তওহীদ যে ইহুদি-খ্রিস্টান বস্তুবাদী যান্ত্রিক সভ্যতাকে ‘দাজ্জাল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, এই অলৌকিক নিদর্শনগুলো তারই সত্যতার সাক্ষ্য বহন করে। এটিই সেই দল, যার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা.) ১৪০০ বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এই মহাসত্য উপলব্ধি করে দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আজ মানবজাতির একমাত্র মুক্তির পথ।
