NEW জেলা অনুযায়ী সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
হোম » উম্মাহ ও সংস্কার » তাহাজ্জুদ যখন ঘুম নষ্ট আর রোজা যখন উপবাস
আকিদাগত বিচ্যুতি

তাহাজ্জুদ যখন ঘুম নষ্ট আর রোজা যখন উপবাস

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬.৫১ ৪ মিনিটে পড়ুন Deenul Haq
feature

ভবিষ্যতে মুসলিম নামধারী এই জাতিটির কতখানি আকিদা বিচ্যুতি ঘটবে এবং তার দরুন তারা যে ইসলামের গণ্ডি থেকেই বহিরাগত হয়ে যাবে তা বোঝাতে গিয়ে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে রসুলাল্লাহ (সা.) বলেন-

‘এমন সময় আসবে যখন ইসলাম শুধু নাম থাকবে, কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে, মসজিদসমূহ লোকে লোকারণ্য হবে কিন্তু সেখানে হেদায়াহ থাকবে না, আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট জীব, তাদের তৈরি ফেতনা তাদের উপরই পতিত হবে। (আলী (রা.) থেকে বায়হাকী, মেশকাত)।’

‘কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে’ -এই কথাটি কীভাবে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে তা বর্তমানে এই জাতির দিকে লক্ষ করলেই পরিষ্কার হয়। কোর’আনের হুকুম এবং শিক্ষা এই জাতি প্রত্যাখ্যান করে দাজ্জালের হুকুম ও বিধান মেনে নিয়েছে। কাজেই বর্তমানে কোর’আন শুধুু অক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; এর কোনো কার্যকারিতা নেই। আবার একই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি অপর একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, “এমন সময় আসবে যখন মানুষ রোজা থাকবে কিন্তু তা হবে না খেয়ে থাকা, রাত জেগে নামাজ পড়বে কিন্তু তা হবে কেবল ঘুম নষ্ট করা (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ হবে না)। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ, তাবারানী, দারিমি, মেশকাত)।”

এই হাদিসগুলোতে মহানবী (সা.) আসলে কাদের বোঝাচ্ছেন? প্রথম হাদিসে বলা হয়েছে-‘ইসলাম শুধু নাম থাকবে’। অর্থাৎ ইসলাম শুধুমাত্র নামের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে; কার্যত ইসলামের নামে যেটা চলবে সেটা প্রকৃত ইসলাম হবে না। আর যেটা প্রকৃত ইসলাম নয়, তার অনুসারীরাও যে প্রকৃত মুসলিম নন-তা সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়। আবার একই হাদিসে তিনি বলেছেন-‘মসজিদসমূহ লোকে লোকারণ্য হবে, কিন্তু সেখানে হেদায়াহ থাকবে না’। এখানেও একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ মসজিদে যাবে, সেখানে গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ পড়বে; কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও তাদের মধ্যে হেদায়াত থাকবে না। আর হেদায়াত না থাকার মানেই হলো তারা পথভ্রষ্ট হবে।

আবার দ্বিতীয় হাদিসে তিনি ‘মানুষ’ বলতে তাদেরই বোঝাচ্ছেন যারা নিজেদের মুসলিম বলে মনে করে। কারণ তিনি অন্য নবীদের উম্মত খ্রিষ্টান-ইহুদিদের সম্বন্ধে এ কথা বলছেন না। লক্ষণীয় বিষয় হলো, হাজারো রকমের ইবাদতের মধ্য থেকে তিনি মাত্র দু’টি বেছে নিয়েছেন-একটি রোজা (সওম) এবং অন্যটি তাহাজ্জুদ। এর মধ্যে একটি ফরজ এবং অন্যটি নফল। বিশ্বনবী (সা.) পাঁচটি বাধ্যতামূলক ফরজ ইবাদত থেকে একটি এবং শত শত নফল ইবাদত থেকে একটি বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এই মনস্তত্ত্ব স্পষ্ট করা যে-আল্লাহ, রসুল ও দীনের ওপর পরিপূর্ণ (মোকাম্মেল) ঈমান ছাড়া কারো পক্ষে এক মাস রোজা রাখা বা নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া সম্ভব নয়। এমনকি মোকাম্মেল ঈমান আছে এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যারা তাহাজ্জুদ পড়েন না। অর্থাৎ রসুলাল্লাহ (সা.) বোঝাচ্ছেন তাদের, যাদের পরিপূর্ণ ও দৃঢ় ঈমান আছে আল্লাহ-রসুল-কোর’আন ও ইসলামের ওপর।

এই হাদিসে তিনি মোনাফেক বা রিয়াকারীদের (লোক দেখানো ইবাদতকারী) বোঝাননি। কারণ যে সব ইবাদত লোক দেখিয়ে করা যায়-যেমন মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া, হজ বা যাকাত দেওয়া-সেগুলো তিনি এখানে উল্লেখ করেননি। মোনাফেক বা রিয়াকারীদের বোঝালে তিনি অবশ্যই এগুলো উল্লেখ করতেন। তিনি ঠিক সেই দু’টি ইবাদত উল্লেখ করলেন যে দুটি মোনাফেক ও রিয়াকারীর পক্ষে পালন করা প্রায় অসম্ভব এবং যেগুলো লোক দেখিয়ে করা যায় না। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন-এমন সময় আসবে যখন উম্মতের মানুষ পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী হয়ে নামাজ-রোজা-হজ্ব-যাকাত-তাহাজ্জুদ ইত্যাদি সর্ববিধ ইবাদত করবে কিন্তু কোনো কিছুই কবুল হবে না। যদি দীর্ঘ এক মাসের কঠিন রোজা এবং বছরের পর বছর গভীর রাত্রে শয্যা ত্যাগ করে করা তাহাজ্জুদ নিষ্ফল হয়, তবে অন্যান্য সব ইবাদত যে বৃথা যাবে-তা বলাই বাহুল্য।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যারা শুধু পরিপূর্ণ বিশ্বাসী বা মোকাম্মল ঈমানদারই নয়, বরং একনিষ্ঠ রোজাদার ও তাহাজ্জুদীও, তাদের ইবাদত নিষ্ফল কেন? তাছাড়া তাদের ইবাদতই যদি বৃথা হয়, তবে অন্যান্য সাধারণ মুসলিমদের ইবাদতের কী দশা?

মহানবীর (সা.) ঐ ভবিষ্যদ্বাণীর একমাত্র সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে-তিনি যাদের কথা বলছেন তারা আজকের দুনিয়ার এই মুসলিম নামধারী জাতি। আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.) এই জাতির সম্মুখে যে উদ্দেশ্য স্থাপন করে দিয়েছিলেন, সেটা হলো আল্লাহর দেওয়া সত্যদীন ‘দীনুল হক’ পৃথিবীময় প্রতিষ্ঠা করে মানবজীবন থেকে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার ও অশান্তি দূর করে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। আকিদার বিকৃতিতে জাতি আজ সেই লক্ষ্য বদলিয়ে অন্য উদ্দেশ্য স্থাপন করে নিয়েছে। আল্লাহ ও রসুলের (সা.) স্থাপিত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যে ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সংগ্রামী চরিত্রের প্রয়োজন-সেই চরিত্র তৈরির জন্য যে প্রশিক্ষণ (সালাহ ও সওম), আজ সেই প্রশিক্ষণগুলোকেই চরম লক্ষ্য হিসেবে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যই যেখানে নেই বা বিকৃত, সেখানে প্রশিক্ষণের আর কোনো মূল্য থাকতে পারে না। কাজেই ঐসব প্রশিক্ষণ অর্থাৎ নামাজ, রোজ

লেখক পরিচিতি
Deenul Haq

Deenul Haq

কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান প্রচার এবং দ্বীনি দাওয়াতের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। আমাদের সাথে থাকুন আপনার ঈমানি যাত্রায়।
×
QR কোড স্ক্যান করুন